মালদ্বীপ ভিসা কবে খুলবে ২০২৬ (আজকের খবর)
মালদ্বীপে কাজের ভিসা আপাতত বন্ধ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ই-ভিসা পদ্ধতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পুরোপুরি চালু রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন সব ধরনের ওয়ার্ক ভিসার জন্য কাগুজে স্ট্যাম্প বাতিল করে সম্পূর্ণ অনলাইন প্রক্রিয়া চালু করেছে। এই পরিবর্তনের ফলে ‘মালদ্বীপ কাজের ভিসা কবে খুলবে’—এই প্রশ্নটির উত্তর এখন আর ‘অপেক্ষা’ নয়, বরং ‘ঠিকভাবে আবেদন প্রক্রিয়া জানা’।
মালদ্বীপের নতুন ওয়ার্ক ই-ভিসা সিস্টেম কীভাবে কাজ করে?
২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ই-ভিসা (e-Visa) পদ্ধতি চালু করেছে [Maldives Immigration]। এর মানে হলো, আপনার পাসপোর্টে আর কোনো স্টিকার বা স্ট্যাম্প লাগবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন হয় এবং ভিসার তথ্য সরাসরি ইমিগ্রেশন সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকে। প্রবাসী কর্মী হিসেবে মালদ্বীপে পৌঁছানোর পর ১৫ দিনের মধ্যে নিয়োগকর্তাকে অবশ্যই ইমিগ্রেশন সিস্টেমে আপনার ওয়ার্ক ই-ভিসার জন্য আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এই ডিজিটাল ব্যবস্থা স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়িয়েছে এবং দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপে কাজের ভিসা পেতে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি কী?
বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে মালদ্বীপে চাকরি করতে হলে প্রথমে নিয়োগকর্তাকে মালদ্বীপ সরকারের এক্সপ্যাট অনলাইন সিস্টেম (Xpat Online System)-এর মাধ্যমে ইমপ্লয়মেন্ট অ্যাপ্রুভাল (Employment Approval) নিতে হবে। এই অনুমোদন ছাড়া কোনো পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব নয়। ইমপ্লয়মেন্ট অ্যাপ্রুভাল পাওয়ার পর নিয়োগকর্তা মালদ্বীপের স্বরাষ্ট্র ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে আপনার জন্য একটি এন্ট্রি পাস (Entry Pass) ইস্যু করবেন। এই এন্ট্রি পাস হাতে পেলেই আপনি মালদ্বীপে ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত। মালদ্বীপে পৌঁছানোর পর ১৫ দিনের মধ্যে আপনার নিয়োগকর্তা ইমিগ্রেশন সিস্টেমে আপনার ওয়ার্ক ই-ভিসার জন্য চূড়ান্ত আবেদন জমা দেবেন। আবেদনের সঠিক অবস্থা আপনি বাসায় বসেই Maldives Immigration Status Checker লিংকের মাধ্যমে যাচাই করতে পারেন।
ওয়ার্ক ই-ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস কী কী?
নতুন নিয়মে ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াও ডিজিটাল। নিয়োগকর্তা আপনার পক্ষে ওয়ার্ক ই-ভিসা আবেদন করার সময় নিচের কাগজপত্র অনলাইনে আপলোড করবেন:
- বৈধ পাসপোর্টের কপি (যার মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস বাকি)
- ইমপ্লয়মেন্ট অ্যাপ্রুভাল (EA) লেটার
- এন্ট্রি পাসের কপি
- নিয়োগকর্তার কোম্পানির নিবন্ধনপত্র
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি (ডিজিটাল ফরম্যাট)
- কর্মচারীর স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র (Employment Contract)
স্মরণ রাখবেন, পাসপোর্টের তথ্য এবং ইমিগ্রেশন সিস্টেমে দেওয়া তথ্যের মধ্যে কোনো অমিল থাকলে সীমান্তে সমস্যা হতে পারে। ভিসা এবং পাসপোর্টের তথ্য হুবহু মিলতে হবে।
মালদ্বীপে কাজের ভিসার খরচ ও ভিসা ফি কত?
মালদ্বীপে কাজের ভিসার খরচ নির্ভর করে ভিসার মেয়াদ এবং ক্যাটাগরির ওপর। বাংলাদেশ থেকে সাধারণত একজন কর্মীর জন্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ফি, মেডিকেল ফি এবং ইমিগ্রেশন ফি মিলিয়ে মোট খরচ ২ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই খরচের একটি বড় অংশ নিয়োগকর্তা বহন করেন। তবে, ভিসার জন্য সরাসরি সরকারি ফি তুলনামূলকভাবে কম। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, একটি স্ট্যান্ডার্ড ওয়ান-ইয়ার ওয়ার্ক ই-ভিসার জন্য প্রায় ৭৫০ মালদ্বীপীয় রুফিয়াহ (প্রায় ৫,৮০০ টাকা) ফি দিতে হয়। এছাড়া, মেডিকেল টেস্ট এবং বায়োমেট্রিক ফি আলাদাভাবে দিতে হয়। সঠিক খরচ জানতে আপনার নিয়োগকর্তা বা নিয়োগকারী এজেন্সির কাছ থেকে খরচের ডিটেইলস ব্রেকডাউন দেখে নেওয়া ভালো।
মালদ্বীপে বাংলাদেশি কর্মীদের গড় বেতন কত?
মালদ্বীপের অর্থনীতি মূলত পর্যটননির্ভর, তাই রিসোর্ট, হোটেল ও নির্মাণ খাতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি কর্মী কাজ করেন। ২০২৬ সালে সাধারণত একজন অদক্ষ শ্রমিকের বেতন শুরু হয় ৪০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকায়। অন্যদিকে, দক্ষ কর্মী (যেমন শেফ, ইলেকট্রিশিয়ান, টেকনিশিয়ান) ৭০,০০০ থেকে ৯০,০০০ টাকা পর্যন্ত বেতন পেতে পারেন। উচ্চ পদস্থ ম্যানেজার বা অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের বেতন আরও বেশি হয়। তবে মনে রাখবেন, এই বেতন আপনার কাজের অভিজ্ঞতা, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা এবং চাকরির ধরনের ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করে।
মালদ্বীপে কাজের ভিসার মেয়াদ কতদিন?
মালদ্বীপের ওয়ার্ক ই-ভিসা সাধারণত ১ বছরের জন্য ইস্যু করা হয়। এই মেয়াদ শেষে ইমপ্লয়মেন্ট অ্যাপ্রুভাল আরও ১ বছরের জন্য নবায়ন করানো যায়। তবে কোনো কোনো কোম্পানি ২ বছর মেয়াদী কন্ট্রাক্ট দেয়, সেক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদও সেই অনুযায়ী হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ১৫ দিন আগে নবায়নের আবেদন করতে হবে। নিয়োগকর্তা আপনার কন্ট্রাক্ট রিনিউ না করলে বা চাকরি ছেড়ে দিলে ৩০ দিনের মধ্যে দেশ ছেড়ে যেতে হবে অথবা অন্য নিয়োগকর্তার কাছে ট্রান্সফার করাতে হবে।
নতুন ই-ভিসা সিস্টেমে কোন বিষয়গুলো বিশেষভাবে খেয়াল রাখবেন?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্যের সামঞ্জস্য। আপনি যদি নতুন পাসপোর্ট নিয়ে মালদ্বীপে প্রবেশ করতে চান, তাহলে আপনার ইমিগ্রেশন সিস্টেমে থাকা ভিসার পাসপোর্ট নম্বর নতুন পাসপোর্টের নম্বরের সাথে হুবহু মিলতে হবে। অন্যথায়, এন্ট্রি দেওয়ার আগে পাসপোর্টটি আটকে রেখে তদন্ত করা হতে পারে। দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের জন্য এই নিয়মের কিছু শিথিলতা রয়েছে। আরেকটি ব্যাপার হলো, আপনি যদি মালদ্বীপের বাইরে যেতে চান, তাহলে বিদেশ যাত্রার আগে আপনার ই-ভিসা সঠিক পাসপোর্টের সাথে লিংক করা আছে কিনা তা অবশ্যই চেক করে নিন। এমনকি ভিসার তথ্যে সামান্য ভুল হলেও সীমান্তে প্রবেশ বা প্রস্থানে বাধার সৃষ্টি হতে পারে।
মালদ্বীপ কাজের ভিসা সংক্রান্ত সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
মালদ্বীপে কাজের ভিসা পেতে কতদিন সময় লাগে?
নিয়োগকর্তা যদি ইমপ্লয়মেন্ট অ্যাপ্রুভাল (EA) সহ সব কাগজপত্র অনলাইনে জমা দেন, তাহলে সাধারণত ওয়ার্ক ই-ভিসা প্রক্রিয়াকরণে ৭-১৫ কার্যদিবস সময় লাগে। এন্ট্রি পাস পাওয়ার পরে আপনি মালদ্বীপ পৌঁছালে, সেখানে পৌঁছানোর ১৫ দিনের মধ্যে ভিসা সম্পন্ন করতে হবে।
মালদ্বীপ কাজের ভিসা কি এখন বন্ধ?
না, মালদ্বীপে কাজের ভিসা বর্তমানে বন্ধ নেই। ২০২৫ সালের শেষের দিকে মালদ্বীপ সরকার একটি সম্পূর্ণ নতুন ডিজিটাল ই-ভিসা সিস্টেম চালু করেছে। এই সিস্টেমের মাধ্যমেই নিয়মিতভাবে বাংলাদেশি এবং অন্যান্য দেশের কর্মীদের জন্য কাজের ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে।
মালদ্বীপে যেতে বিমান ভাড়া কত?
বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সরাসরি ফ্লাইটের ভাড়া সাধারণত ৪৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। ফ্লাইটের সময় প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘন্টা। ঋতুভেদে এবং আগাম বুকিং করলে ভাড়া কমও হতে পারে।
মালদ্বীপে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য মেডিকেল টেস্ট বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, মালদ্বীপে ওয়ার্ক ই-ভিসার জন্য অবশ্যই একটি স্বীকৃত হাসপাতাল থেকে মেডিকেল টেস্ট করাতে হবে। এই টেস্টে সাধারণত বুকের এক্স-রে, রক্ত পরীক্ষা (এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি/সি) এবং সাধারণ শারীরিক পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকে। মেডিকেল সার্টিফিকেট ইমিগ্রেশন আবেদনের সময় আপলোড করতে হয়।
মালদ্বীপের টাকার মান কত?
মালদ্বীপের মুদ্রার নাম ‘রুফিয়াহ’ (MVR)। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী ১ মালদ্বীপীয় রুফিয়াহ সমান প্রায় ৭.৭৬ বাংলাদেশি টাকা (২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী)। তবে এই হার বাজারে ওঠানামা করতে পারে।
মালদ্বীপে কি ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে?
হ্যাঁ, মালদ্বীপে ট্যুরিস্ট ভিসা পুরোপুরি চালু আছে। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল পেতে পারেন, কিন্তু তার জন্য প্রি-অ্যাপ্রুভাল নেওয়া ভালো। কাজের ভিসার বিপরীতে ট্যুরিস্ট ভিসায় কাজ করার অনুমতি নেই। ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে গেলে কাজ করা বেআইনি হবে।
মালদ্বীপে কাজ করতে ইংরেজি ভাষা জানা জরুরি?
জরুরি না হলেও, ইংরেজি ভাষা জানা থাকলে আপনার বেতন এবং সুযোগ-সুবিধা অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে রিসোর্ট ও হোটেল সেক্টরে ইংরেজি জানা কর্মীদের চাহিদা বেশি। সাধারণ শ্রমিকদের জন্য মাঝারি মানের ইংরেজি বা স্থানীয় ভাষা (দিভেহি) জানা সুবিধাজনক হতে পারে।
নিয়োগকর্তা চুক্তি না মানলে কোথায় অভিযোগ করবেন?
নিয়োগকর্তা যদি চুক্তি অনুযায়ী বেতন না দেন বা অন্য কোনো সমস্যা করেন, তাহলে আপনি মালদ্বীপের শ্রম মন্ত্রণালয় (Ministry of Economic Development) এবং মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনে সরাসরি অভিযোগ করতে পারেন। এছাড়া বাংলাদেশ দূতাবাসও এ ব্যাপারে সহায়তা করতে পারে। চুক্তি করার আগে সব শর্ত ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি।
